শেষ চিঠি || পত্রকাব্য || চিঠি নং-২ || Last letter

১ম চিঠির পর ২য় চিঠি আসে বেশ কিছুদিন পর। কিন্তু এতদিন প্রেম থেমে থাকেনি! বরাবরের ন্যায় প্রতিদিন গভীর রাতে তাদের ফোনে কথা চলতো। মেঘলার মা যদি জেনে যেত, তাতেও ক্ষতি ছিল না। মেঘলার বান্ধবি সুমির কাছে একটা সিম কার্ড দেওয়া ছিল। পরিবেশ প্রতিকূলে গেলে ঐ সিম কার্ড ওপেন করে সুমি কনফারেন্স করতো। সুমি অভিনয়ে খুবই পটু ছিল। অর্থাৎ সে সবসময় ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকতো।

রুদ্রের অবশ্য ফ্যামিলিগত কোন সমস্যা ছিল না। যার সুবাদে কয়েকবার  মেঘলা, রুদ্রদের বাড়িতে গিয়েছে সুমির সাথে। রুদ্রর বাবা-মা বাচ্চাদের স্বাধীনতায় কখনো হস্তক্ষেপ করতো না। তাঁরা ছিলেন  খুবই বন্ধুসুলব! যাইহোক, ২য় চিঠি ছিল সাপ্তাহিক পরীক্ষার একটি খাতার মতন!

পিন করা  সেই চিঠির ১ম পৃষ্ঠায় লেখা ছিল-

 

প্রেরক- মেঘলা

প্রেপক- রুদ্র

প্রেরকের তাং ঃ ০২/১০/১২

 

২য় পৃষ্ঠায়-

শুরুতে উপরে বড় করে রক্ত দিয়ে লেখা ছিল-

 

এর পর থেকে আড়াআড়ি ভাবে লেখা ছিল-

তুমি জানো কালকে রাত ২ টায় আমি আমার পায়ে ব্লেড দিয়ে ৬১ টা দাগ দিছি। কালকে রাতে আম্মু আমাকে অনেক রাগ করছে। আচ্ছা তুমি বল আমি কি অনেক খারাপ। আমি কি এমন করছি তুমি কি জানো। যাই হোক না কেন তোমাকে আমি কখনও ভুলতে পারব না। তোমাকে ছেড়ে আমি কোন দিনও থাকতে পারব না। আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি অনেক, অনেক, অনেক বেশী। কিন্তু দেখ কি ভাগ্য আমার তুমি সেটাও বোঝ না। তোমার সাথে কথা না বলে থাকতে আমার অনেক কষ্ট হয়। কিন্তু তুমি ভাব তোমার সাথে আমার কথাই বলতে ইচ্ছা করে না। আর তোমার সাথে কথা বলার কোন সুযোগ পাব এটা যখন আমি জানতে পারি তখনই আমার মন ভাল হয়ে যায়।

তোমাকে এগুলো কিছু বলেছি বল। কেন বলিনি জানো?

তুমি কষ্ট পাবা বলে। আমি তোমাকে কখন কষ্ট দিতে চাইনা। আমার আসায় প্রতিদিন কি হয়। সবাই আমার সাথে কেমন ব্যবহার করে। আমি সারাদিন খাইছি কিনা এগুলো তোমাকে কিছুই বলি না। কারন তুমি কষ্ট পাবা বলে। আমার প্রতিটা দিনই অনেক কষ্টে কাটে। কিন্তু তোমার সাথে আমি কিছুই শেয়ার করি না। কারন তুমি কষ্ট পাবা বলে। তোমাকে আমি শুধু ভাল কথাই বলি। আচ্ছা তুমি যখন ফোনে আমাকে বেশী কথা বল আমি তোমাকে এগুলো নিয়ে কোন প্রোটেস্ট করি বল। কোন তর্ক করি। তোমাকে কোন বাজে কথা বলি। কিছুই বলি না। শুধু চুপ করে শুনি। তুমি জানো তুমি যখন আমার সাথে এরকম কর আমি তখনই কাদি। জানিনা কেন চোখ থেকে পানি বের হয়ে আসে। আমি যে কাদি সেটা তোমাকে বলিও না বুঝতেও দেই না। কারন তুমি কষ্ট পাবা বলে।

তুমি কখনও ভেবে দেখেছ আমার কতটা কষ্ট লাগতে পারে। কীসে আমার কষ্ট লাগে। কি বললে আমার রাগ হয়। কখনও ভাবনি। তোমাকে আমি কষ্ট দিতে চাই না। আর তুমি আমাকে কষ্ট দিয়েই যাও। আমি কি পারিনা তোমার সাথে ঝগড়া করতে, পারি। কিন্তু করিনা। কেন যান তোমার খারাপ লাগবে এ কথা ভেবে। কিন্তু তুমি কেন এমন কর বল তো। জানো আমার কত কষ্ট হয়। কেন আমাকে এত দেও এত কাঁদাও। এখন রাত ৩ টা বাজে আর এখনও আমি বসে তোমার কথা ভাবছি। তুমি কি এগুলো বোঝ। যাই হোক তোমাকে অনেক খারাপ কথা লিখে ফেলছি রাগ কর না। তোমার কাছে  একটাই request আমার সাথে আর এমন করো না। (Plz)

যদি তুমি এমন কর তাহলে আমি কার কাছে যাব বল।

তুমি ছাড়া তো আমার আর কেউ নেই।

 

চতুর্থ পৃষ্ঠার শুরুতে ও শেষে গোলাপি রঙের লিপিস্তিকের ৩ টি করে ছোপ ছিল। এর মধ্যে আড়াআড়ি ভাবে ইংরেজিতে লেখা ছিল-

My love is only for you.

I love you a lot.

            Love you so much and miss

You all time.

            Plz, don’t forget me.

I always remember you.

            Blive me I really

Love you.

My kiss and my whole body

            Only for you.

 

যে,

যাই বলুক না কেন

আমি শুধুই তোমার।

            সারাজীবন তোমার থাকব।

আর এভাবেই তোমাকে

ভালবাসব।

 

Promise me, কখনও আমাকে ছেড়ে যাবে না তো।

যদি পার তাহলে একটা Ans দিও-

Ans এর wait করব।

 

I love, love, love, love, love

love, love, love, love, love, love

            love, love, love, love, love

                        love, love, love,

love.

You….. soooooooo —-

                                    Much.

 

৫ম পৃষ্ঠার বড় করে রক্ত দিয়ে লেখা ছিল-

৬ম পৃষ্ঠা সাদা (খালি) ছিল। কিছুই লেখা ছিল না। হয়তো রাত ভোর হয়ে গিয়েছিল!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link
Powered by Social Snap